
নরসিংদীর পলাশে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম মারা গেছেন ( ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন )।
নয় দিন ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পলাশ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন জানান।
ইব্রাহিম আল মাসুম (৩৩) উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে। সে ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক।
১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গার হাসনহাটা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ও গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফকির বাড়ি এলাকার বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানির সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল। এর জের ধরে ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকায় একটি মুদি দোকানে অবস্থান করছিল মাসুম, মামুন ও জয়নালসহ আরো কয়েকজন।
পূর্বশত্রুতার জেরে বিজয়, সবুজ, ইকবাল, সানি, মহসিন, শাহ আলম ও সুজন দলবলসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এতে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় ছাত্রদল নেতা মাসুম। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরো ১০ জন।
আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে ছাত্রদল নেতা মাসুমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পলাশ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহেদ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা মাসুমের বোন জামাই বাদী হয়ে পলাশ থানায় ৩৭ জনের নাম দিয়ে মামলা করেছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি ।