1. admin@jonogonerbani.com : admin :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্হানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের সুস্থতা কামনায় পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবে দোয়া মাহফিল জাতী,ধর্ম বর্ণের মধ্যে বিভেদ হতে দিবো না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মঈন খান পলাশের ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত দেড় লাখ টাকা অটোর জন্য প্রাণ গেল মনিরের: ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি পিবিআই জালে পলাশে যুবককে কুপিয়ে জখম ও মারধরের অভিযোগ ঘোড়াশাল সার কারখানায় সারের ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করলো বিএনপির নেতৃবৃন্দ ইতালির লোভ দেখিয়ে প্রলোভন ও প্রতারণা: পিবিআই নরসিংদীর সফল অভিযানে ধরা পড়ল পাচার চক্রের হোতা বিএনপি সরকারের অবদানেই শিক্ষকরা শতভাগ বেতন সুবিধা পাচ্ছেন: ড. মঈন খান পলাশ সার কারখানায় সাবেক শ্রমিকের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত হয়েছেন- এসআই মনজুর রহমান

পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মোঃ নাজমুল হক মণি
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

নরসিংদীর পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিভিত্তিক অদক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে পশু চিকিৎসা করানো, সরকারি অফিসে বসেই ব্যক্তিগত ফার্মেসির ওষুধ ব্যবহারে বাধ্য করার অভিযোগসহ একাধিক অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে অনুসন্ধানে। এসব অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খামারি ও সেবাগ্রহীতারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে কিছু চুক্তিভিত্তিক লোককে দিয়ে পশু চিকিৎসার কাজ করানো হচ্ছে, যাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক সময় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় কয়েকজন খামারি জানান, সরকারি চিকিৎসক না থাকলে এসব চুক্তিভিত্তিক লোকই চিকিৎসা দেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ফার্মেসি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি অফিসে বসেই পশু চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয় এবং সেই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নির্দিষ্ট একটি ফার্মেসি থেকে কিনে আনার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ভেটেরিনারি সার্জন ও কম্পাউন্ডারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসন অন্য কোনো ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিভিত্তিক কয়েকজন লোক ওই সরকারি বাসভবন টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে চুক্তিভিত্তিক লোকজন সেখানে অবস্থান করেন।
এছাড়াও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের ওষুধের সঠিক হিসাব-নিকাশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন খামারি ও সেবাগ্রহীতা।

পশু চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, অনেক সময় সরকারি অফিসে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। তখন তাদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অফিসের কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকারি বাসায় চুক্তিভিত্তিক লোকজনের থাকা মূলত নিরাপত্তার স্বার্থে, যাতে কোনো চুরি বা ক্ষয়ক্ষতি না হয়।”
অন্যদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করে। তাই স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

আরো খবর দেখুন এখানে
© জনগণের বাণী | আইটি সহায়তাঃ সাব্বির আইটি
Developed By Bongshai IT