
নরসিংদীর রায়পুরায় ক্লু-লেস অটো চালক মনির হোসেন (১৬) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই ঘটনার মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদী। সেই সাথে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টার দিকে রায়পুরা থানার চরসুবুদ্ধি এলাকার মোঃ শাহআলম মিয়ার ১৬ বছর বয়সী ছেলে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে গত ৫ অক্টোবর সকালে আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া সংলগ্ন বিলের কচুরিপানার ভেতর থেকে মনিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘাতকেরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মনিরের প্যান্টের বেল্ট দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলে লুকিয়ে রেখেছিল। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
ঘটনাটি পিবিআই নরসিংদীর নজরে আসলে ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেনের দিকনির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এসআই (নিঃ) মোঃ আশরাফ আলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে গত ১৪ অক্টোবর বিকালে পলাশ থানার ঘোড়াশাল এলাকা থেকে মূল আসামি আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার পিবিআই নরসিংদী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পিবিআই পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসাদের দেওয়া তথ্যে ভিকটিমের অটোরিকশার ৪টি গ্যাসটোন প্লাস (Gaston plus) ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। আসামিরা স্বীকার করে যে, তারা অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে বিক্রি করে দিয়েছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই বাজার এলাকা থেকে অপর আসামি জাহিদুল মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।